Connect with us

আগরতলা শহরে ভ্রমণের সেরা ৫ গন্তব্য | Best places to visit in Agartala

Bangla

আগরতলা শহরে ভ্রমণের সেরা ৫ গন্তব্য | Best places to visit in Agartala

আগরতলা শহরে ভ্রমণের সেরা ৫ গন্তব্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। আজকের ব্লগে জানবেন, আগরতলা শহরে একদিনে কোন কোন জায়গায় ঘুরবেন, কোথায় খাবেন এবং কোথায় শপিং করবেন।

আগরতলা শহরে ভ্রমণের সেরা ৫ গন্তব্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। আজকের ব্লগে জানবেন, আগরতলা শহরে একদিনে কোন কোন জায়গায় ঘুরবেন, কোথায় খাবেন এবং কোথায় শপিং করবেন।
ঢাকা থেকে ভারতের সবচেয়ে কাছের রাজ্য ত্রিপুরা। ত্রিপুরার রাজধানী শহর আগরতলা।নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়ায় গোহার্টির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আগরতলা। আগরতলা শহরের আয়তন ৭৬ বর্গকিলোমিটার। ছিমছাম এই শহরে মাত্র ৪ লক্ষ মানুষের বসবাস। এই শহরের বেশিরভাগ মানুষই বাংলা ভাষায় কথা বলেন। আগরতলা শহরের সাথে কলকাতা, ইমপাল, গোহার্টি, বেঙ্গালুরু এবং নতুন দিল্লির সাথে সরাসরি আকাশ পথে যোগাযোগ রয়েছে।

বন্ধুরা, আমরা আগরতলার গোলবাজার এলাকায় উঠেছি। এই এলাকাটি অনেকটা ঢাকার চকবাজার এলাকার মত। এখানেই আগরতলার সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট। যেহেতু পরিবার ও আত্মীয়সজনের জন্য একটু বেশি পরিমানে চকলেট এবং ইন্ডিয়ান কসমেটিকস কেনার ইচ্ছে আছে, তাই এই এলাকাতে উঠেছি। আজ আমরা সারাদিন ঘুরব। আমাদের প্রথম গন্তব‌্য উজ্জয়ন্ত প্যালেস। গোলবাজার থেকে উজ্জয়ন্ত প্যালেস এর দূরত্ব ১.৬ কিলোমিটার এবং দুজনের রিক্সাভাড়া মাত্র ২০ রুপি।

কোন এক সময় রাজবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মুলত একটি মিউজিয়াম। এই মিউজিয়ামের একটা অংশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সেসময়ের প্রকাশিত পত্রিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনেক ছবি আছে যেটি দেখলে আপনার অনেক ভাল লাগবে। উজায়ন্ত প্যালেস সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। উজায়ন্ত প্যালেসে প্রবেশ ফি স্থানীয়দের জন্য ২০ রুপি এবং বিদেশিদের জন্য ১০০ রুপি।  তবে, আপনি যদি কুমিল্লা কিংবা ব্রাম্মনবাড়িয়ার টান রেখে টিকেট কাউন্টারে বাংলায় কথা বলেন, তাহলে আপনার কাছ থেকেও  ২০ রুপি করে টিকেটের মূল্য রাখবে। কারন, আগরতলার মানুষের বাংলা বলার ধরন কুমিল্লা এবং ব্রাম্মনবাড়িয়ার মানুষের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য আগরতলা জগন্নাথ মন্দির। উজয়ন্ত প্যালেস থেকে জগন্নাথ মন্দিরের দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুজনের রিক্সাভাড়া ১৫ রুপি। মন্দিরটি শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বর্তমানে পরিণত হয়েছে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্যতম পযর্টন কেন্দ্রে। ভক্তদের পাশাপাশি প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন সুন্দর স্থাপত্যকলার এই মন্দিরটিতে। মন্দিরটিতে প্রবেশ করতে কোন টিকেট কাটার প্রয়োজন নেই। মন্দিরের পুরো কমপাউন্ডটি অনেক বড়।

জগন্নাথ মন্দির ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। তাই একটু বিশ্রামের জন্য চলে এসেছি রাজবাড়ি লেক গার্ডেনে। এটি জগন্নাথ মন্দির থেকে বের হয়ে রাস্তার ঠিক উল্টো পাশেই অবস্থিত। এখানে কিছুটা সময় নিরিবিলি কাটাতে পারেন অনায়াসেই। এই লেক গার্ডেনটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আমরা রওনা দিলাম নেহেরু পার্কের উদ্দেশ্যে। রাজবাড়ি লেক থেকে নেহরু পার্কের দূরত্ব ২.৬ কিলোমিটার। দুজনের রিক্সাভাড়া খরচ হয়েছে ৪০ রুপি।

নেহরু পার্ক আগরতলা শহরের গোর্খাবস্তি এলাকায় অবস্থিত। পার্কটিতে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ৬ রুপি দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। তবে, ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকেট লাগবে না।

পার্কটিতে প্রবেশ করার পর সোজা তাকাতেই চোখে পড়লো বিশাল আকৃতির একটি মানব প্রতিকৃতি। সাদা টাইলসের ভিতের উপর দাঁড়ানো ভাস্কর্যটি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর।

শান্ত ছিমছাম পরিবেশ। যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা সবুজ শ্যামল অপরূপ মায়াবী এক পৃথিবী। চারপাশের বাতাসে কিচিরমিচির শব্দ। মনে হলো পাখিরা স্বাগত জানাচ্ছে অতিথিকে।

পার্কটি ২০০৪ সালে ত্রিপুরার তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার উদ্বোধন করেন। ত্রিপুরা সরকারের বনবিভাগের অধীনে থাকা এই পার্কটি ভোর ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

নেহরু পার্ক থেকে বের হয়ে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ১৪ দেবতার মন্দির। নেহরু পার্ক থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার।

আমরা নেহরু পার্ক থেকে ১৪ দেবতার মন্দির যাবো এবং সেখানে আধ ঘন্টা ঘুরে আবার শহরের বিগ বাজার পর্যন্ত ফিরে আসবো। এভাবে একটি বেবি ট্যাক্সি রিজার্ভ নিয়েছি। আসা যাওয়া সহ মোট ভাড়া নিয়েছে মাত্র ২০০ রুপি।

প্রায় ৪শ বছরের পুরনো চতুর্দশ দেবতা মন্দির ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি। বাইরের আবরণে কিছুটা পরিবর্তন এলেও মূল মন্দির রয়েছে আগের মোড়কে। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্ব বহন করা এ মন্দিরে পূজা চলে আসছে সেই পুরনো আমলের রীতি-নীতি মেনেই। পূজায় সাবেকিয়ানায় পরিবর্তন ঘটেনি বিন্দুমাত্র।

এ মন্দির কমপ্লেক্সে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় খার্চি পূজা। লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হয় সাতদিনের সে ধর্মীয় উৎসবে। খার্চি পূজার পুরহিতকে বলাহয় চন্তাই। তিনি আদিবাসী। বংশ পরম্পরায় নির্বাচিত হন একজন চন্তাই। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই ১৪ জন দেবতাকে পূজা করার মন্ত্র জানেন। কারন, এই মন্ত্রের কোনো লিখিত রূপ নেই।

বন্ধুরা এবার জানিয়ে দিচ্ছি, আগরতলা শহরে কোথায় খাওয়া দাওয়া করবেন।

এখানে বাঙ্গালি খাবারের জন্য বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট সংকর হোটেল। তবে, নেতাজী সুভাষ রোডে পাশাপাশি প্রায় একই নামের তিন হোটেল দেখে একটু কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। আপনারা পোস্ট অফিস মোড়েই বিগ বাজারের আশেপাশের যেকোন রেস্টুরেন্টেও বাংলা খাবার খেতে পারেন। বিগ বাজারের নীচে ভারতের বিভিন্ন এলাকার স্ট্রীট ফুড পাওয়া যায়। আপনি চাইলে কেএফসিতেও দু এক বেলা খেতে পারেন। এখানে খাবারের খরচ আমাদের ঢাকা শহরের তুলনায় অনেক স্বস্তা।

আগরতলায় শপিংয়ের সবচেয়ে বড় জায়গা বিগ বাজার। এর কাছাকাছি রয়েছে শ্রীলেদার্স, বাজার কলকাতা, এবং স্টাইল বাজারের মত আরও বেশ কয়েকটি বিখ্যাত চেইন শপিং আউটলেট।

তো, বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আগরতলা ভ্রমণের গল্প। ভালো লাগলে লাইক এবং কমেন্ট দিয়ে জানাবেন। খারাপ লাগলেও কমেন্ট দিয়ে জানাতে ভূলবেন না। সবাই ভালো থাকবেন। আবারো দেখা হবে নতুন কোন ভ্রমণ গন্তব্যে।

আগের পর্ব পড়ুন: ২১৫ টাকায় ঢাকা টু আগরতলা
আগের পর্বের ইউটিউব লিংক: ২১৫ টাকায় ঢাকা টু আগরতলা

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in Bangla

To Top